তেলিয়ামুড়া, ৮ আগস্ট: রাতের অন্ধকারে আচমকা বিকট শব্দ। ছুটে এসে দেখা গেল, জাতীয় সড়কের ওপর দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে রয়েছে একটি টমটম। আর সেই গাড়ির ভিতরে আটকে প্রাণের জন্য লড়াই করছেন মাত্র ১৮ বছরের এক যুবক।শুক্রবার গভীর রাতে তেলিয়ামুড়া থানাধীন নেতাজিনগর এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তেলিয়ামুড়া থেকে চাকমাঘাটের দিকে যাচ্ছিল TR-06A-1976 নম্বরের একটি মহিন্দ্রা টমটম। রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ একটি দূরপাল্লার লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় টমটমটির।সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে টমটমের সামনের ও পেছনের অংশ কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েন চালক দীপ্তনু সরকার। বাইরে তখন শুরু হয় তাঁকে উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা।ঘটনাটি প্রথম দেখতে পান স্থানীয় সাংবাদিক রাহুল পাল ও মৃন্ময় রায়। তাঁদের চিৎকারে ছুটে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। এরপর স্থানীয় মানুষ, সাংবাদিক ও দমকলকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুরু হয় দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান।প্রায় ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে সেই চেষ্টা। শেষপর্যন্ত গাড়ির ভিতর থেকে গুরুতর আহত দীপ্তনুকে বের করে আনা সম্ভব হয়। দমকলের গাড়িতে করে তাঁকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে।সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবি পন্ত হাসপাতালে রেফার করা হয়।এই দুর্ঘটনার পর ফের সামনে এসেছে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধারের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে গাড়ির ভিতর থেকে আহত যুবককে বের করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।স্থানীয়দের কথায়, প্রতিটি মিনিটই দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতীয় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং দ্রুত জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা থাকা জরুরি।উল্লেখ্য, গত বছর চাকমাঘাট এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় লরির চালক মিহির দেবনাথ দীর্ঘ সময় গাড়ির ভিতরে আটকে থাকার পর প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ফলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। লরি ও টমটমের সংঘর্ষের পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
রাতের সড়কে ভয়াবহ ধাক্কা, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া টমটমে আটকে ১৮ বছরের দীপ্তনু
