নিজস্ব সংবাদদাতা: কখনও কখনও একটি ছোট্ট প্রশ্নই বড়দের বিবেককে নাড়া দিয়ে যায়। দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়ার যোগমায়া কালীবাড়ি সংলগ্ন জেবি স্কুলে তেমনই এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী পূরুবী দাস— “মেম, সব গাছ কেটে ফেললে আমরা নিঃশ্বাস নেব কীভাবে?”স্কুল প্রাঙ্গণে একের পর এক গাছ কাটা পড়ার পর শিশুটির এই সরল প্রশ্ন এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের কথা বলে স্কুল পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় কাউন্সিলরের উদ্যোগে বনদপ্তরের মাধ্যমে স্কুলের অধিকাংশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একসময় আগর, নিম, নাগেশ্বর ও মেহগনির ছায়ায় ঘেরা সবুজ ক্যাম্পাস এখন অনেকটাই ফাঁকা। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী ঘোষ পাল জানান, তিনি শুধুমাত্র দুটি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ এবং কয়েকটি গাছের ডাল ছাঁটার সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।অন্যদিকে, মহকুমা প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বনদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করেই গাছ অপসারণ করা হয়েছে। নতুন কোনো ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বলেও জানানো হয়েছে।ঘটনার পর এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ বনাম নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের প্রয়োজন থাকলেও সবুজ পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে আরও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত না?শেষ পর্যন্ত, সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রেখে গেল ছোট্ট পূরুবী— “আমরা নিঃশ্বাস নেব কীভাবে?” সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখন গোটা বিলোনিয়া।
‘মেম, আমরা নিঃশ্বাস নেব কীভাবে?’— এক শিশুর প্রশ্নে বিলোনিয়া স্কুলে গাছ কাটাকে ঘিরে বিতর্ক
