দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম বাসস্ট্যান্ডে ছাড়পত্র (পারমিট স্লিপ) বাবদ অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাস ও জিপ চালক, মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের একাংশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের ফলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং শ্রমিকদের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি স্বীকৃত এই বাসস্ট্যান্ডের পরিচালনার দায়িত্ব শ্রমিক সংগঠনের হাতে রয়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে এই দায়িত্ব পালন করে আসছে সাউথ ত্রিপুরা বাস-জিপ চালক সংঘ। সংগঠনের মাধ্যমে ছাড়পত্রের অর্থ সংগ্রহ করে কর্মচারীদের বেতন, বাসস্ট্যান্ডের রক্ষণাবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে সেই অর্থ ব্যয় করা হতো বলে দাবি সংগঠনের একাংশের।তবে অভিযোগ, গত কয়েক মাসে ছাড়পত্র সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাব্রুম বাসস্ট্যান্ডে ছাড়পত্রের নির্ধারিত অর্থ কমিয়ে দেওয়া হলেও, পরে মনুবাজার বাসস্ট্যান্ডে আলাদাভাবে নতুন করে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এর ফলে একই রুটে চলাচলকারী গাড়িগুলোর কাছ থেকে আগের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন চালক ও বাস মালিক।অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব বা রাজ্য কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে কিছু চালক ও মালিককে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে, ছাড়পত্র বাবদ সংগৃহীত অর্থ কমে যাওয়ায় সাব্রুম বাসস্ট্যান্ডে কর্মরত তিনজন কর্মচারীর বেতন এবং শ্রমিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে ব্যয় করতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনের একাংশ।উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে কোনো ধরনের তোলাবাজি বা বেআইনি অর্থ আদায় বরদাস্ত করা হবে না। সেই প্রেক্ষাপটে সাব্রুমের এই অভিযোগগুলিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ চালক ও বাস মালিকদের একাংশ।
সাব্রুম বাসস্ট্যান্ডে ছাড়পত্রের অর্থ আদায় নিয়ে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ চালক ও বাস মালিকদের একাংশ
