সাহিত্য, সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের আবহে শান্তিরবাজারে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে শুক্রবার শান্তিরবাজারের মুকুট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা।দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদ, শান্তিরবাজার পৌরপরিষদ, বগাফা পঞ্চায়েত সমিতি ও বিএসি এবং জোলাইবাড়ী পঞ্চায়েত সমিতি ও বিএসি-র যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ১১টায় চারাগাছে জল সিঞ্চনের মধ্য দিয়ে। পরিবেশ রক্ষার বার্তার পাশাপাশি এই প্রতীকী উদ্যোগ অনুষ্ঠানে এক আলাদা তাৎপর্য এনে দেয়।এরপর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত অতিথিরা। প্রধান অতিথি ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধক দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র শুধু বাংলা সাহিত্যের নন, সমগ্র ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাঁর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ আজও দেশপ্রেমের এক অমর প্রেরণা।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা মহম্মদ সাজাদ পি (আইএএস), শান্তিরবাজার মহকুমা শাসক তরুণ কান্তি সরকার, শান্তিরবাজার পৌরপরিষদের চেয়ারপার্সন স্বপ্না বৈদ্য, ভাইস চেয়ারপার্সন সত্যব্রত সাহা, জোলাইবাড়ী পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, জেলা পরিষদের সদস্য সুমন দেবনাথ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী দেবাশীষ ভৌমিক।আলোচনায় বক্তারা বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যকীর্তি, তাঁর চিন্তাধারা এবং জাতীয় চেতনা গঠনে তাঁর অনন্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা হয়।অনুষ্ঠানের শেষে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয় (বিলোনীয়া)-এর সহ-অধিকর্তা মনোজ দেববর্মা উপস্থিত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক অনুপম পাল-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণ, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সাহিত্যপ্রেমে ভরপুর পরিবেশে এদিনের অনুষ্ঠান শান্তিরবাজারের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।
শান্তিরবাজারে বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মজয়ন্তী উদযাপন, সাহিত্য ও দেশপ্রেমের বার্তায় মুখর মুকুট অডিটোরিয়াম
