স্মার্ট মিটার নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার গুরুতর অভিযোগ উঠল নবগ্রাম এলাকা থেকে। অভিযোগ, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পরে দলবল নিয়ে এসে কার্যত জোর করে স্মার্ট মিটার বসিয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা।ঘটনাটি ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেডের দুর্জয়নগর সাব-স্টেশনের অধীন নবগ্রাম এলাকার এক বিদ্যুৎ গ্রাহকের বাড়িতে বলে জানা গেছে।অভিযোগকারী গ্রাহকের দাবি, তাঁর বাড়িতে থাকা পুরনো মিটারটি ঠিকভাবেই কাজ করছিল। এরপর পুরনো মিটারের পরিবর্তে স্মার্ট মিটার সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে দুই মিটারের রিডিংয়ের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করেন তিনি। বিষয়টি বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের জানানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।গ্রাহকের অভিযোগ, প্রথমে তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা দলবল নিয়ে এসে তাঁর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও স্মার্ট মিটার বসিয়ে দেন। কিন্তু মিটার বসানোর পরই ঘটে বিপত্তি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের জেরে বাড়ির ১২টি বাল্ব এবং একটি সিলিং ফ্যান নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ।শুধু তাই নয়, গ্রাহকের দাবি, পুরনো মিটার খুলে দেওয়ার পর সেটি আর ঠিকমতো কাজ করেনি। নতুন স্মার্ট মিটার লাগানোর পরও প্রায় দু’দিন পর্যন্ত সঠিকভাবে রিডিং না দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের গাফিলতিতে তাঁকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই ভোক্তা।ঘটনার পর তিনি বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, পুরনো মিটারটি সচল থাকা সত্ত্বেও কেন এইভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্মার্ট মিটার বসানো হলো এবং মিটার বসানোর সময় ত্রুটির কারণে যে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলি নষ্ট হয়েছে, তার দায় কে নেবে—এই প্রশ্নের উত্তর দপ্তরকে দিতে হবে।নবগ্রামের এই ঘটনাকে ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠছে, গ্রাহকের সম্মতি ও নিরাপত্তাকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ চলছে? সরকারি মহলের পক্ষ থেকে স্মার্ট মিটার নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হলেও, মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।অভিযোগকারী গ্রাহক পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং তাঁর ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
লাইন কেটে স্মার্ট মিটার! নবগ্রামে বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে জোর করে মিটার বসানোর অভিযোগ
