শান্তিরবাজার, ১৫ জুলাই: প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই স্কুলে যায় শিশুরা, কাজে যান মানুষ, জরুরি প্রয়োজনে ছুটে আসে অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের আশা। কিন্তু দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার পুর পরিষদের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দয়ালজি পল্লীর বাসিন্দাদের কাছে সেই রাস্তা এখন আতঙ্কের আরেক নাম।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থা একই রয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় নদীর স্রোতে রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে যাওয়ার পর মেরামতির কাজ শুরু হলেও তা আজও সম্পূর্ণ হয়নি। রাস্তার সঙ্গে নির্মীয়মাণ সাইড ওয়ালের কাজও দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।বাসিন্দাদের কথায়, “কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু শেষ হওয়ার নাম নেই।” বর্ষা এলেই কাদা, গর্ত আর ভাঙা অংশ মিলিয়ে রাস্তা কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের যাতায়াতে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, কোনো দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে এই রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের গাড়ি প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেই দাবি তাঁদের।এলাকাবাসীর একটাই দাবি—আর আশ্বাস নয়, দ্রুত রাস্তা ও সাইড ওয়ালের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক। কারণ, একটি নিরাপদ রাস্তা শুধু যাতায়াতের সুবিধা নয়, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
রাস্তা নয়, যেন বিপদের ফাঁদ! শান্তিরবাজারের দয়ালজি পল্লীতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
