Headlines

কৌশিকী অমাবস্যায় ত্রিপুরেশ্বরীর দরবারে ভক্তের ঢল

কেউ এসেছেন বহু দূর থেকে, কেউ আবার পরিবারের সঙ্গে ছুটে এসেছেন মায়ের চরণে প্রার্থনা জানাতে। কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে ভক্তের ঢলে এদিন যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল উদয়পুরের ঐতিহাসিক মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির।৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম এই পীঠস্থানে সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বহিঃরাজ্য থেকেও হাজার হাজার পুণ্যার্থী সমবেত হন। মায়ের দর্শন পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ভক্তদের চোখেমুখে ছিল এক অন্যরকম আনন্দ ও ভক্তি।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যা অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ একটি তিথি। এই দিনে মায়ের আরাধনা করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়—এমন বিশ্বাস নিয়েই বহু ভক্ত দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ত্রিপুরেশ্বরীর দরবারে।বিশেষ তিথি উপলক্ষে মন্দিরে আয়োজন করা হয় বিশেষ পূজা, যজ্ঞ, আরতি ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের। মায়ের বিশেষ সাজসজ্জার পাশাপাশি প্রাচীন রীতি মেনে পরানো হয় লেবুর মালা। ভক্তরাও মায়ের চরণে পেড়াঁ ভোগ ও পুজোর সামগ্রী নিবেদন করে নিজেদের মনের কথা জানান।চারপাশে ভক্তিগীতি, শঙ্খধ্বনি আর ‘জয় মা ত্রিপুরেশ্বরী’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির চত্বর। ব্যস্ত জীবনের নানা দুশ্চিন্তা ভুলে কিছুটা সময়ের জন্য মায়ের দরবারে শান্তির খোঁজে মগ্ন হয়ে পড়েন ভক্তরা।মন্দিরের পুরোহিত জানান, কৌশিকী অমাবস্যায় মাতা ত্রিপুরা সুন্দরীর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রাচীন রীতি ও পরম্পরা মেনেই এই বিশেষ দিনে মায়ের আরাধনা করা হয়। মায়ের আশীর্বাদ পেতে প্রতিবছরই দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে আসেন।ভক্তদের বিপুল সমাগমকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসন ও মন্দির কমিটির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং পুণ্যার্থীদের সুষ্ঠুভাবে দর্শনের জন্য মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক।কৌশিকী অমাবস্যার এই দিনে তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, ত্রিপুরেশ্বরীর প্রতি মানুষের গভীর বিশ্বাস, আবেগ ও টানের এক জীবন্ত ছবি হয়ে উঠল উদয়পুরের এই প্রাচীন মন্দির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *