আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ’ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হলো ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, এসসি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন দাস এবং যুব কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি নীলকমল সাহা।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন অর্থনৈতিক রিপোর্টেও সেই চিত্র স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে সরকার ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ’-এর মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও, এর বাস্তব সুফল রাজ্যের মানুষ কতটা পাচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।তিনি অভিযোগ করেন, অতীতেও একাধিকবার বিনিয়োগকারী সম্মেলন ও বিজনেস কনক্লেভের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু সেইসব উদ্যোগের ফলে কত শিল্প স্থাপিত হয়েছে, কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে কিংবা কত বিনিয়োগ বাস্তবে এসেছে—সেই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।কংগ্রেসের দাবি, আজও বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের অভাবে রাজ্যের বাইরে কিংবা বিদেশে কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে কৃষক, রাবার চাষি ও সবজি চাষিরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আসন্ন জনগণনা (সেন্সাস) প্রসঙ্গে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, এই কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ না করে চুক্তিভিত্তিকভাবে বেকার যুবকদের নিয়োগ করা উচিত। এতে জনগণনার কাজ যেমন সম্পন্ন হবে, তেমনি বহু বেকার যুবকও সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বলে তাঁর মত।এছাড়াও, ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ’ আয়োজন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলে কংগ্রেস। দলের দাবি, পূর্ববর্তী বিজনেস সামিটগুলির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে প্রবীর চক্রবর্তী দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে কংগ্রেস নেতৃত্বের সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলি তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
‘বিজনেস কনক্লেভ নয়, কর্মসংস্থানের হিসাব দিন’—সরকারকে কংগ্রেসের নিশানা
