রাজ্যের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে জাতীয় সড়কের বেহাল দশা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শোনা গেল বামফ্রন্টের সাংবাদিক বৈঠকে।বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে অভিযোগ করেন, জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও পরিকাঠামো ছাড়া এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, আলোচনা করে সমস্যার সমাধান না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।বিদ্যুতের বাড়তি ফিক্সড চার্জ ও স্মার্ট মিটার নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুৎ নিগমের ব্যর্থতার বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহার এবং স্মার্ট মিটার স্থাপন বন্ধের দাবি জানান তিনি।ত্রিপুরা শান্তি নিকেতন মেডিকেল কলেজের কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন মানিক দে। তিনি বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিরপেক্ষভাবে জানতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আনন্দনগর, কাঁঠালতলি-সহ সাম্প্রতিক নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাগুলির উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ।নেশার কারবার, রামনগরের বিস্ফোরণ, বক্সনগর ও অমরপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের আচরণ, বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিদর্শনে আইএসকে হেনস্থার ঘটনা, খোয়াই-সহ বিভিন্ন জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা, কর্মসংস্থানের সংকট, শিশু বিক্রির অভিযোগ, টুয়েপ প্রকল্পে কাজ কমে যাওয়া, হকার উচ্ছেদ এবং সামাজিক ভাতা না-পাওয়ার মতো একাধিক বিষয়ও তুলে ধরে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা গভীর সংকটে। বহু স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। গ্রাম ও পাহাড়ে পানীয় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়েও মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অটল জলধারা প্রকল্পে পাইপ বসানো হলেও বহু এলাকায় জল পৌঁছাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আরএসপি নেতা দীপক দেব বলেন, বর্তমানে রাজ্যের অবস্থা এমন যে সর্বত্র সমস্যা, কিন্তু সমাধানের উদ্যোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, রেলপথে নেশাজাতীয় সামগ্রী রাজ্যে প্রবেশ করছে, অপরাধ বাড়ছে, শহরেও মানুষ রক্তাক্ত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির জন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য বামফ্রন্ট নেতারাও সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক ভূমিকার সমালোচনা করে জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অগণিত সমস্যায় জর্জরিত রাজ্য! সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে সরব বামফ্রন্ট, দাবি দ্রুত সমাধানের
