Headlines

তিন বছর ধরে মৃত্যুকে সঙ্গী করে চলাচল! মধুবনের ঝুলন্ত সেতু নিয়ে আতঙ্কে হাজারো মানুষ, প্রশাসনের দৃষ্টি কবে?

সোনামুড়া: প্রতিদিনের মতোই স্কুল, কলেজ, বাজার কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হন মানুষ। কিন্তু মধুবনের বাসিন্দাদের জন্য সেই প্রতিদিনের পথচলাই যেন মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটার নাম। গোমতী নদীর উপর অবস্থিত মধুবনের ঝুলন্ত সেতুটি গত প্রায় তিন বছর ধরে ভগ্নদশায় পড়ে থাকলেও আজও সেটিই হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা।বরনারায়ন, গরুরবান্দ এবং বেজিমারা—এই তিন গ্রামের বাসিন্দাদের সোনামুড়া শহরে যাতায়াতের প্রধান সংযোগ এই সেতু। বিশেষ করে সোনামুড়া ডিগ্রি কলেজে পড়তে যাওয়া বহু ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে গেছে এবং প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। তবুও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ চোখে পড়েনি।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনিক টানাপোড়েন। কাঁঠালিয়া ব্লক প্রশাসনের দাবি, সেতুটি সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের অধীন। অন্যদিকে নগর পঞ্চায়েতের বক্তব্য, বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের দায়িত্ব। ফলে দুই দপ্তরের এই দায় এড়ানোর লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে সাধারণ মানুষকেই প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।বরনারায়ন গ্রামের বাসিন্দা রমেশ দেবনাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কখন যে সেতু ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে, কেউ জানে না। ছোট ছোট দুর্ঘটনা তো লেগেই আছে। বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনও ফল মেলেনি।”এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই আবেদন—অবিলম্বে সেতুটি মেরামত করা হোক অথবা নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁদের আশঙ্কা, আর দেরি হলে যেকোনো দিন ঘটে যেতে পারে এক বড় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *