একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর যেন থমকে গিয়েছিল উদয়পুরের জগন্নাথ দিঘি। গত ৬ সেপ্টেম্বর দিঘিতে স্নান করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় উদয়পুর ডন বসকো স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র দেবজ্যোতি দে-র। সেই ঘটনার পর থেকেই দিঘির জল ব্যবহার থেকে অনেকটাই বিরত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।রবিবার সকালে সেই বিষণ্ণ পরিবেশের মধ্যেই ধর্মীয় রীতি মেনে জগন্নাথ দিঘির ঘাটে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ গঙ্গা পূজা। উদয়পুর পুর পরিষদের সহযোগিতায় এবং উদয়পুর জগন্নাথ বাড়ি মন্দির উন্নয়ন কমিটির পরিচালনায় এই পূজার আয়োজন করা হয়।শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী দিঘির জল শুদ্ধিকরণের উদ্দেশ্যে পাশের গোমতী নদী থেকে আনা হয় ১০৮ কলসি জল। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেই জল জগন্নাথ দিঘিতে অর্পণ করা হয়। পুরোহিতদের মন্ত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে দিঘির ঘাট।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির সদস্য, পুর পরিষদের প্রতিনিধিসহ এলাকার বহু ভক্তপ্রাণ মানুষ। দেবজ্যোতির মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতি এখনও স্থানীয়দের মনে তাজা থাকলেও, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য মেনে এদিনের গঙ্গা পূজার মধ্য দিয়ে দিঘির জলকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী গঙ্গা পূজা ও শুদ্ধিকরণের আচার সম্পন্ন হওয়ার পর জগন্নাথ দিঘির জল পুনরায় ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রথা ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে সামনে রেখে এদিন থেকেই দিঘির জল ব্যবহারের পথ স্বাভাবিক হলো।তবে ধর্মীয় আচার শেষ হলেও দেবজ্যোতির মর্মান্তিক বিদায়ের স্মৃতি যে সহজে মুছে যাওয়ার নয়, তা এদিনের পরিবেশেও স্পষ্ট ছিল।
দেবজ্যোতির স্মৃতির ভার কাটিয়ে জগন্নাথ দিঘিতে গঙ্গা পূজা, ১০৮ কলসি জলে শুদ্ধিকরণের আচার
