সাব্রুম, ২৩ জুলাই: দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার পশ্চিম জলেফা ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক রহস্যজনক দুর্ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার গভীর রাতে ৪২ বছর বয়সী জিআরএস কর্মী বিপ্লব দে-কে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন।খবর পেয়ে সাব্রুম অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বিপ্লব দে তাঁর কন্যাকে বাড়ির পাশের একটি অনুষ্ঠানবাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলেন। এরপরই তিনি কীভাবে গুরুতর আহত হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এলাকায় জোর গুঞ্জন, একটি দ্রুতগতির অটোরিকশার ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এই দাবি এখনও পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়ে সাব্রুম থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, অন্য কোনো যানবাহনের সম্পৃক্ততা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনার পর ফের সামনে এসেছে সাব্রুমে বেপরোয়া যান চলাচলের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। কয়েক বছর আগে একই এলাকায় এক অধ্যাপিকার প্রাণহানির ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাসিন্দারা বলেন, দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং পারমিটবিহীন যাত্রীবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, বিপ্লব দে-র আহত হওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তেরও দাবি উঠেছে।
কন্যাকে পৌঁছে বাড়ি ফেরার পথে বিপর্যয়! গুরুতর আহত জিআরএস কর্মী, বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ে ক্ষোভ
