আগরতলা | নিজস্ব প্রতিনিধিআগরতলা রেলস্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ এসকফ ও ফেয়ারডিল কফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক ব্যক্তিকে আটক করা হলেও, তদন্তকারীদের ধারণা এর পেছনে আরও বড় একটি মাদক পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে। সেই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে জোরকদমে তদন্ত চালানো হচ্ছে।গত ২ জুলাই সকালে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই), রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে আগরতলা রেলস্টেশন থেকে সুব্রত দেব (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি খোয়াই জেলার কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা এবং আগরতলার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।অভিযানে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫৫,৬২৬ বোতল এসকফ ও ফেয়ারডিল কফ সিরাপ। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপের বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ টাকা। বর্তমানে আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ডিআরআই-এর হেফাজতে রয়েছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। এর সঙ্গে একটি সুসংগঠিত পাচারচক্র জড়িত থাকতে পারে। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ কফ সিরাপ রেলপথে রাজ্যে পৌঁছাল, কারা এর পরিকল্পনাকারী এবং সীমান্ত এলাকায় সরবরাহের নেপথ্যে কারা রয়েছে— সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে, স্থানীয় মহলে কয়েকজনের নাম নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ শোনা গেলেও, তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ বা নিশ্চিত করেনি। আইন অনুযায়ী, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।তদন্তকারী সূত্রের মতে, এই মামলার মূল লক্ষ্য এখন পুরো পাচার নেটওয়ার্কের হদিস বের করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই চক্রের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
৬.৫৪ কোটি টাকার কফ সিরাপ উদ্ধার: আগরতলা রেলস্টেশনের ঘটনায় মূল পাচারচক্রের খোঁজে তদন্ত জোরদার
