আগরতলা, নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নিয়োগ, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন বিতর্ক, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পরিকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করলেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একাধিক বিষয় তুলে ধরে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।পিকে চক্রবর্তীকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োগের প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র চৌধুরী দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, স্টেট ইলেকশন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক পদে এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা উচিত, যাঁর প্রতি সব রাজনৈতিক দলের আস্থা থাকবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মনোজ কুমারকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।এছাড়া তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে NEET ও CUET-কে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রসঙ্গে আন্দোলনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি কেন্দ্র সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ২০ জুলাই এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলা হবে।সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি খোয়াই-আগরতলা সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল অবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অন্যান্য জনস্বার্থমূলক বিষয় নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।আগরতলা শহরের পরিকাঠামো প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পরিদর্শনেরও সমালোচনা করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বর্ষাকালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সময় সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল।
পিকে চক্রবর্তীর নিয়োগ, নির্বাচন কমিশন, শিক্ষাক্ষেত্র ও আইন-শৃঙ্খলা—একাধিক ইস্যুতে সরকারের সমালোচনায় জিতেন্দ্র চৌধুরী
