আড়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা কিডনি রোগে আক্রান্ত রাজেশ সাহা ও তাঁর মা মিনতি রানী সাহার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, ১৯৯২ সালে রেজিস্ট্রি করা তাঁদের একমাত্র জমি ২০১৫ সালে বেআইনিভাবে অন্যের নামে মিউটেশন করে দখল করা হয়েছে। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে সেই জমি বিক্রি করতে গিয়েই সামনে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।রাজেশের অভিযোগ, তাঁর মা মিনতি রানী সাহা দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে আড়ালিয়া এলাকায় বৈধভাবে জমিটি কিনেছিলেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর আর্থিক অনটনের কারণে জমির মিউটেশন করা সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি ভজন দাস প্রতারণার মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে মিউটেশন করিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে জমি দখল করে নেন বলে অভিযোগ।২০২১ সালে রাজেশ গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। পরিবারের একমাত্র সম্বল ওই জমি বিক্রির উদ্যোগ নিতেই দেখা যায়, সরকারি নথিতে জমির রেকর্ড অন্যের নামে। এরপর এসডিএম সদরের কাছে আরটিআই দাখিল করেন রাজেশ। তাঁর দাবি, আরটিআইয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত নথিতে জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে এখনও তাঁর মা মিনতি রানী সাহার নামই রয়েছে, অথচ জমিটি অন্যের দখলে।মঙ্গলবার এলাকার প্রবীণদের নিয়ে জমিটি পরিদর্শনে গেলে অভিযুক্ত ভজন দাস ও তাঁর সহযোগীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন রাজেশ। ওই ঘটনায় তিনি আহত হন। পরে তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অসহায় রাজেশ সাহা ও তাঁর মা প্রশাসনের কাছে তাঁদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও মানবিক হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে রাজেশ বলেন, “এই জমিটাই আমাদের শেষ সম্বল। চিকিৎসার জন্য এটুকুই ভরসা ছিল। আমি শুধু আমার মায়ের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই।”
চিকিৎসার টাকায় বিক্রি করতে গিয়ে মিলল ধাক্কা! ‘জমি দখলের’ অভিযোগে ন্যায়বিচারের আবেদন কিডনি রোগী রাজেশের
