আগরতলা, ৩০ জুলাই: থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও এফআইআর নথিভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পুলিশ প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত দেবকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।মামলার নথি অনুযায়ী, ঝুমা রায় নামে এক মহিলা প্রায় এক মাস আগে একটি গুরুতর ঘটনার অভিযোগ নিয়ে এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত আবেদন করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর গ্রহণ করেনি। এছাড়াও তাঁকে থানায় ডেকে মামলা না করার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।থানা থেকে প্রতিকার না পেয়ে ওই মহিলা পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু সেখান থেকেও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি ত্রিপুরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিকালে আদালত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয় বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এরপর বৃহস্পতিবার আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসি সুশান্ত দেবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।এছাড়া, অভিযোগকারী মহিলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁকে থানায় ডেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কেও হলফনামা আকারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।এই ঘটনাকে ঘিরে থানায় অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং পুলিশের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া বিচারপ্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর এফআইআর নথিভুক্ত, সাসপেন্ড এয়ারপোর্ট থানার ওসি
