Headlines

শ্রদ্ধা জানাতে এসে আতঙ্কে পিণ্ডদান! ভাঙা ঘাট, নেই ন্যূনতম পরিকাঠামো—সোনামুড়ার গোমতী তীরে ক্ষোভ

সোনামুড়া, ১৬ জুলাই: পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় পিণ্ডদান করতে গোমতী নদীর তীরে আসেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগ নিয়ে ঘাটে পৌঁছেই তাদের সামনে ধরা পড়ে এক ভিন্ন বাস্তবতা—ভাঙা নদীর পাড়, ঝুঁকিপূর্ণ ঘাট, নেই বসার জায়গা, নেই শৌচাগার, এমনকি মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই। ফলে ভক্তির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে আতঙ্ক, ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব।সোনামুড়ার বটতলী সুইজগেট এলাকার এই ঘাটে আগে একটি পাকা স্নানঘাট ছিল। স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় সেটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও নতুন ঘাট নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন ছোট-বড় সবাইকে ভাঙা ও পিচ্ছিল নদীপাড় বেয়ে নামতে হচ্ছে। প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও মাথার ওপর নেই একটি ছাউনি। বয়স্ক মানুষদের বসার জায়গা নেই, পানীয় জল বা শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধাও অনুপস্থিত। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারী ও প্রবীণরা।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়টি মহিলাদের জন্য। ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী নদীতে স্নান করলেও, সেখানে কোনো চেঞ্জিং রুম বা আড়ালযুক্ত স্নানঘাট নেই। বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যেই পোশাক পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যা অনেকের কাছেই অত্যন্ত বিব্রতকর ও অসম্মানজনক বলে মনে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুণ্যার্থীদের দাবি, ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে অবিলম্বে একটি নিরাপদ পাকা ঘাট, শৌচাগার, বিশ্রামাগার, মহিলাদের জন্য পৃথক চেঞ্জিং রুম এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। তাদের কথায়, ধর্মীয় আচার পালনের জন্য মানুষ এখানে আসেন শান্তি ও শ্রদ্ধা নিয়ে, কিন্তু ফিরতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *