চোখের সামনে ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তা। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে আসছে গোমতী নদী। আর সেই দৃশ্য দেখেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তেলকাজলা এলাকার মানুষ।গোমতী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ইতিমধ্যেই তেলকাজলার প্রধান সড়কের বড় একটি অংশ নদীর গর্ভে চলে গেছে। এখন যে অংশটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আর এক দফা বড় ভাঙন হলেই নদীর জল সরাসরি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। হুমকির মুখে পড়বে শত শত পরিবারের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং পুরো একটি গ্রাম।এই সড়কটি দুই পঞ্চায়েতের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করে বাজার, স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। এছাড়া মোহনভোগ, চুন্দল হয়ে মাতাবাড়িগামী বহু পুণ্যার্থীরও প্রধান যোগাযোগের পথ এটি।মূল রাস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এক স্থানীয় জমির মালিক মানবিক উদ্যোগে নিজের জমির ওপর দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করতে দিয়েছেন। কিন্তু সেই বিকল্প পথও এখন নদীভাঙনের হুমকিতে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে, ফলে যাতায়াত কার্যত দুঃসহ হয়ে উঠেছে।এলাকাবাসীর দাবি, অস্থায়ী মেরামত নয়—এবার স্থায়ী সমাধান চাই। তাঁদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদীতীর সংরক্ষণ এবং সড়ক রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। না হলে আগামী দিনে শুধু একটি রাস্তা নয়, মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা।এখন সবার একটাই প্রশ্ন—প্রশাসন কি দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, নাকি গোমতীর ভাঙন আরও কয়েকটি গ্রামকে গ্রাস করার পরই উদ্যোগ নেওয়া হবে?
গোমতীর ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে তেলকাজলার সড়ক, আতঙ্কে দুই পঞ্চায়েতের মানুষ
