কুমারঘাট, ১৬ জুলাই: ক্যালেন্ডারে সময় এগিয়েছে, কিন্তু কুমারঘাটের বহু পরিবারের ঘড়ি যেন থেমে আছে সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতিতে। উল্টো রথের উৎসবে আনন্দে মেতে ওঠা মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয়েছিল শোকস্তব্ধ জনসমুদ্রে। যে পরিবারগুলো সেদিন তাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে হারিয়েছিল, তাদের কাছে প্রতিটি রথযাত্রাই এখন নতুন করে বেদনার দিন।কোনো বাড়িতে আজও খাবারের টেবিলে একটি চেয়ার খালি পড়ে থাকে। কোথাও বাবার অপেক্ষায় থাকা সন্তান আজও বুঝে উঠতে পারেনি কেন তিনি আর ফিরে এলেন না। আবার কোনো মা এখনও ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে দিন কাটান। সময় ক্ষত শুকিয়ে দেয়—এমন কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু স্বজনহারাদের কাছে সেই ক্ষত আজও তাজা।নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, সরকারি সহায়তা বা আর্থিক অনুদান জীবনের কিছু বাস্তব সমস্যা সামাল দিতে সাহায্য করেছে ঠিকই, কিন্তু প্রিয় মানুষটিকে হারানোর যে শূন্যতা, তা কোনো কিছুর বিনিময়েই পূরণ হওয়ার নয়। প্রতিটি উৎসব, প্রতিটি পারিবারিক অনুষ্ঠান তাদের মনে করিয়ে দেয় সেই মানুষটির অনুপস্থিতির কথা।স্থানীয় মানুষেরাও মনে করেন, এই দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবারের নয়, গোটা কুমারঘাটের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। তাই ভবিষ্যতে এমন কোনো দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য ধর্মীয় উৎসবগুলোতে আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।উল্টো রথের সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকের চোখই আজও ভিজে ওঠে। প্রিয়জনেরা আর ফিরবেন না—এই নির্মম বাস্তবতা মেনে নিয়েই জীবন এগিয়ে চলেছে। তবে তাদের স্মৃতি, ভালোবাসা আর অসমাপ্ত স্বপ্ন আজও বেঁচে আছে পরিবারগুলোর প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
উল্টো রথের সেই বিভীষিকা আজও তাড়া করে—কেমন আছেন কুমারঘাট ট্র্যাজেডিতে স্বজনহারা পরিবারগুলো?
