Headlines

১০ বছর ধরে ছেলের হাতে নির্যাতনের অভিযোগ! শেষমেশ নিজের ঘর থেকেই বের করে দেওয়া হলো বৃদ্ধা মাকে

একজন মা, যিনি নিজের সন্তানকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন, জীবনের সমস্ত স্বপ্ন-আশা জুড়ে দেখেছেন সন্তানের ভবিষ্যৎ। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সন্তানই যদি হয়ে ওঠে মায়ের ভয়ের কারণ—তাহলে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?এমনই এক হৃদয়বিদারক অভিযোগ উঠেছে আমতলী থানার অন্তর্গত দক্ষিণ বাধারঘাট চারিপাড়া, নবদিগন্ত ক্লাব সংলগ্ন এলাকায়। ষাটোর্ধ্ব বিধবা লক্ষ্মী রানী সরকারের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে নিজের ছেলে ও পুত্রবধূর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন তিনি।স্বামী খোকন সরকার প্রায় এক দশক আগে মারা যাওয়ার পর চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন লক্ষ্মী রানী। একমাত্র ছেলে সজল সরকারকে ভালোবেসে বিয়ে দিয়েছিলেন ধুমধাম করে। হয়তো ভেবেছিলেন, জীবনের শেষ সময়টা ছেলের সংসারেই শান্তিতে কাটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই আজ যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ বৃদ্ধার।লক্ষ্মী রানীর দাবি, মঙ্গলবারও ছেলে সজল সরকার ও পুত্রবধূ মৌসুমী দাস সরকার তাঁকে মারধর করেন। লাঠি দিয়ে আঘাত করা এবং চুল ধরে টানাটানিরও অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি স্বামীর তৈরি ভিটেবাড়িতে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ।বাধ্য হয়ে প্রাণের ভয়ে এখন মেয়েদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধা মা।চোখের জলে সাংবাদিকদের সামনে নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে লক্ষ্মী রানী জানান, নিজের গর্ভের সন্তানই যে একদিন তাঁর ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা তিনি কখনও স্বপ্নেও ভাবেননি। তাঁর আরও অভিযোগ, তিনি যে বৃদ্ধভাতা পান, সেই টাকাও ছেলে ও পুত্রবধূ নিয়ে নেন, অথচ তাঁর দেখাশোনা করেন না।শেষ পর্যন্ত আর চুপ করে থাকতে পারেননি বৃদ্ধা। বুধবার দুপুরে ছেলে সজল সরকার ও পুত্রবধূ মৌসুমী দাস সরকারের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।পুলিশের তরফে অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।তবে এই ঘটনার পর সামনে এসেছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একজন বৃদ্ধা মা যদি নিজের সন্তানের কাছেই নিরাপত্তা না পান, তাহলে তাঁর আশ্রয় কোথায়?যে মায়ের হাত ধরে সন্তান জীবনের প্রথম পথ চলা শিখেছিল, সেই মায়ের শেষ বয়সটা কি তাহলে ভয় আর কান্নার মধ্যেই কাটবে?অভিযোগের সত্যতা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। কিন্তু লক্ষ্মী রানী সরকারের চোখের জল সমাজের কাছে রেখে গেল এক গভীর প্রশ্ন—সন্তানের কাছে একজন মায়ের নিরাপত্তা ও সম্মানের নিশ্চয়তা কি এতটাই দুর্লভ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *