“আমাদেরকে বিষ দাও, বিষ খেয়ে এবং ছেলে-মেয়েদের খাইয়ে মরে যাই! যাব তো কোথায় যাব?”—জীবিকার চাপে এমনই অসহায় আর্তি টমটম চালকদের। সংসার চালানো, গাড়ির কিস্তি মেটানো এবং প্রতিদিনের খরচ সামলে ওঠার মধ্যেই অতিরিক্ত জরিমানার বোঝা তাঁদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে অভিযোগ চালকদের।ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মুক্তা ঘোষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জরিমানা আদায়ের অভিযোগ তুলে সোমবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন টমটম চালকরা। তাঁদের অভিযোগ, যাত্রী নিয়ে মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় এলেই প্রতিদিন ১,০০০ টাকা করে জরিমানা করা হচ্ছে। জরিমানা দেওয়ার পরও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তাঁরা।চালকদের কথায়, সারাদিন রাস্তায় পরিশ্রম করে যে আয় হয়, তার বড় অংশ যদি জরিমানায় চলে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে চলা দায় হয়ে পড়ছে। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে গাড়ির কিস্তি—সব মিলিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান।এই অভিযোগ জানাতে সোমবার পূর্ব থানায় একত্রিত হয়ে ডেপুটেশন দেন টমটম চালকরা। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন তাঁরা।চালকদের দাবি, আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু নিয়মের নামে অতিরিক্ত জরিমানা এবং রসিদ না দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। তাঁদের জীবিকা ও পরিবারের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।তবে ইন্সপেক্টর মুক্তা ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
“বিষ দাও, বিষ খেয়ে মরে যাই”—জরিমানার চাপে কান্নায় ভেঙে পড়লেন টমটম চালকরা
