দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার পশ্চিম মুহুরীপুর এলাকায় একই পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি বাড়ি থেকে শঙ্কর চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ছবি চক্রবর্তী এবং ছেলে কৃষ্ণ চক্রবর্তীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শঙ্কর চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই ঘরে তাঁদের ছেলে কৃষ্ণ চক্রবর্তীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকাজুড়ে নানা জল্পনা শুরু হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ পুলিশ।খবর পেয়ে বাইখোড়া ও বিলোনিয়া থানার পুলিশ, পাশাপাশি দক্ষিণ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মৃত শঙ্কর চক্রবর্তীর বড় ছেলে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, ঘটনার দিন কৃষ্ণ স্বাভাবিকের তুলনায় আগেই কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে পূজা করার কথা বলে এবং তাঁকে কাকার বাড়ি থেকে লকারের চাবি আনতে পাঠায়। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন ঘরের দরজা-জানালা ভেতর থেকে বন্ধ। বহুবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে ভাইকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং বাবা-মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।মিঠুন চক্রবর্তীর দাবি, তাঁর ভাই ভালোবেসে এক তরুণীকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের পরিবার সেই বিয়ে মেনে নিলেও, তরুণীর পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে ওই বিষয়ের কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।পুলিশ এখনও কোনো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।এই মর্মান্তিক ঘটনায় পশ্চিম মুহুরীপুর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।
একই বাড়িতে বাবা-মা ও ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার, রহস্যভেদে জোরদার তদন্তে পুলিশ
