নিখোঁজ ১৫ বছরের মেয়ে। থানায় অভিযোগ জানিয়েও এখনও সন্ধান মেলেনি। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার আশ্বাসে কাঞ্চনপুর থেকে আগরতলা ছুটে এসেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বাবাকে—এমনই অভিযোগ এক অসহায় পিতার। মেয়ের সন্ধান ও নিরাপদে উদ্ধারের দাবিতে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা ওই বাবার দাবি, তাঁর ১৫ বছরের মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমে তিনি কাঞ্চনপুর থানায় বিষয়টি জানান। পরদিন থানার এক মহিলা কনস্টেবল তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর মেয়েকে আগরতলা বিমানবন্দর এলাকায় পাওয়া গেছে। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তাঁকে আগরতলায় আসতে বলা হয়।মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় কোনওরকম দেরি না করে দুটি গাড়ি ভাড়া করে আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একটি গাড়িতে মহিলা কনস্টেবল, তাঁর পরিবারের এক সদস্য ও ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ছিল। অন্য গাড়িতে তিনি নিজে এবং দুই এসপিও সদস্য ছিলেন।কিন্তু আগরতলায় পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি তাঁর প্রত্যাশামতো হয়নি বলে অভিযোগ বাবার। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট মহিলা কনস্টেবল ও তাঁর পরিবারের সদস্য বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করলেও মেয়েকে উদ্ধারের বিষয়ে তিনি কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখতে পাননি। পরে তাঁকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় কাঞ্চনপুর থেকে আগরতলা এসে গাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচ করার পরও যখন মেয়ের সন্ধান মিলল না, তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই বাবা। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস পেলেও বাস্তবে মেয়েকে এখনও তাঁর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।পরবর্তীতে একজন আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অভিযোগের একটি কপি উত্তর ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে এবং অন্যটি কাঞ্চনপুর থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কাঞ্চনপুর থানার ওসি শ্রীকান্ত রুদ্র পাল জানান, নাবালিকা অপহরণের বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেটি রেজিস্টার করা হয়েছে। নাবালিকাকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।তবে বাবার বক্তব্য, মেয়ের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও সন্তোষজনক অগ্রগতির খবর পাননি। মেয়েটি কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—এই চিন্তাই এখন তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছে।সাংবাদিকদের সামনে অসহায় বাবার একটাই আবেদন—যেভাবেই হোক তাঁর মেয়েকে দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তাঁর কথায়, মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি এখনও প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।ঘটনাটি নিয়ে নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্য সামনে এসেছে। নাবালিকার সন্ধান ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় পরিবার।
মেয়ের অপেক্ষায় অসহায় বাবা, থানায় অভিযোগের পরও মেলেনি ১৫ বছরের নাবালিকার সন্ধান
