শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। অথচ সেই শিক্ষক পরিবারের বিরুদ্ধেই জন্মদাতা বাবাকে অবহেলায় রাখার অভিযোগ উঠেছে চড়িলামের উত্তর মুড়া এলাকায়। অভিযোগ, জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ সুকুমার দেবনাথ।স্থানীয়দের দাবি, আড়লীয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এই এলাকার বাসিন্দা সুকুমার দেবনাথকে একটি ভাঙাচোরা, বিদ্যুৎহীন ঘরে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে তিনি নিজেই আগুন জ্বালিয়ে কোনওরকমে একবেলা রান্না করে খাচ্ছেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, তাঁর ছেলে টিটন দেবনাথ সরকারি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক এবং পুত্রবধূ পম্পা দেবনাথও সরকারি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষিকা। টিটন দেবনাথ আইলমারা হাইস্কুলে এবং পম্পা দেবনাথ জিরানিয়া হাইস্কুলে কর্মরত বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ, ছেলে ও পুত্রবধূর কাছ থেকে কোনও আর্থিক সহায়তা বা খাবার পান না বৃদ্ধ সুকুমার দেবনাথ। অথচ তাঁদের স্বচ্ছল জীবনযাপনের বিপরীতে বৃদ্ধ বাবার এমন দুর্দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, একজন বৃদ্ধ বাবার জীবনের শেষ দিনগুলি অন্তত সম্মান ও স্বস্তিতে কাটানো উচিত। যাঁরা অন্যের সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের পরিবারে নিজের জন্মদাতা বাবার এমন অসহায় অবস্থার অভিযোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক।তবে অভিযোগগুলির সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দম্পতির বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আপাতত বৃদ্ধ সুকুমার দেবনাথের দুরবস্থা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। এখন প্রশ্ন, এই অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর জীবনযাপনের ন্যূনতম সুযোগ ও সম্মান নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসবে কে?
বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ, জরাজীর্ণ ঘরে অসহায় বৃদ্ধ বাবা!
