মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সারা বছর জমিতে পরিশ্রম করেন কৃষকরা। আশা থাকে, ধান পাকার পর সেই ফসল ঘরে তুলে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই এখন অনিশ্চয়তার মুখে জোলাইবাড়ির বামছড়া এলাকার কৃষকদের। ধান চাষের মরশুমে বানরের উৎপাত তাঁদের কাছে ক্রমশ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।শান্তিরবাজার মহকুমার জোলাইবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বহু মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ধানগাছে শিষ বের হওয়ার পর থেকে ধান পাকা পর্যন্ত জমিতে বানরের উপদ্রব বেড়ে যায়। ফলে ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও ফসল রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।কৃষকদের আক্ষেপ, মাঠে ফসল ফলানোর জন্য সারাবছর পরিশ্রম করতে হয়। অথচ ফসল ঘরে তোলার সময় বানরের উৎপাতের কারণে সেই পরিশ্রমের পূর্ণ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।এই পরিস্থিতিতে বগাফা বন দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের আশঙ্কা, সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে অনেকেই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।এর প্রভাব শুধু কৃষকদের জীবিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, স্থানীয় বাজারে কৃষিজ পণ্যের সরবরাহেও তার প্রভাব পড়তে পারে। উৎপাদন কমে গেলে বাইরে থেকে কৃষিজ পণ্য আনতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে বেশি দামে তা কিনতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।তাই কৃষকদের জীবিকা রক্ষা এবং কৃষিকাজের প্রতি তাঁদের আগ্রহ বজায় রাখতে বানরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে বন দপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। এখন দেখার, কৃষকদের এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বানরের উৎপাতে দিশেহারা জোলাইবাড়ির কৃষকরা, ফসল বাঁচাতে বন দপ্তরের হস্তক্ষেপের দাবি
