ধর্মনগর: চার দিন ধরে গাড়ি নিয়ে নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফিরেই মৃত্যু হল ৩২ বছর বয়সি গাড়িচালক শিহাব উদ্দিনের। উত্তর ত্রিপুরা জেলার যুবরাজনগর বিধানসভা এলাকার ঢুপিরবন্ধ গ্রাম পঞ্চায়েতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়েছে শিহাবের। ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে ঘিরে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের গণধোলাইয়ের অভিযোগও উঠেছে।মৃত শিহাব উদ্দিন ঢুপিরবন্ধ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মনির উদ্দিন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ওই সময় তাঁর কাছে কোনও মোবাইল ফোনও ছিল না। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ থাকার সময় শিহাব একই গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইচুব আলীর বাড়িতে ছিলেন।অভিযোগ, আজ সন্ধ্যায় এক অজ্ঞাতপরিচয় টোটোচালক শিহাবকে ইচুব আলীর বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। বাড়ি ফেরার সময় তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। বাড়ির লোকজনের সঙ্গে অল্প কিছু কথা বলার পরই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে শিহাব ইচুব আলীর নাম উল্লেখ করে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে জানান।এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীরা ইচুব আলীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরই মধ্যে উত্তেজিত জনতার হাতে অভিযুক্তকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এদিকে, এই ঘটনার পিছনে মাদক কারবারের যোগসূত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।একদিকে পরিবারের প্রিয়জনকে হারানোর শোক, অন্যদিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে এলাকায় উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিহাবের মৃত্যু কি সত্যিই মারধরের জেরে, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে।
চার দিন নিখোঁজ থাকার পর গাড়িচালকের মৃত্যু, মারধরের অভিযোগে অভিযুক্তকে গণধোলাই
