দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরুম মহকুমার সোনিয়ারখিল নন্দীটিলায় রাত নামলেই যেন আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে। অভিযোগ, সীমান্তে বেআইনি পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক অত্যাচার চালানো হচ্ছে। ভাঙচুর থেকে শুরু করে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া—অভিযোগের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা শম্ভু দত্তের পরিবারের অভিযোগ, বিএসএফের তল্লাশিতে বেআইনি পাচারের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁদের পরিবারকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু হয়। এরপর গভীর রাতে ঘরের টিন কেটে হামলা, পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের মঠ ভাঙচুর এবং পানীয় জলে অ্যাসিড মিশিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।অভিযোগের তীর বিষ্ণু শীলের দিকে। শম্ভু দত্তের পরিবারের দাবি, তাঁর স্ত্রীর কাছে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ভোরের আগে তাঁর সঙ্গে শ্লীলতাহানির চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কারণে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিবেশ নষ্ট করা থেকে শুরু করে রাতের অন্ধকারে সীমান্তপথে পাচারের মতো কর্মকাণ্ডের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফাঁড়ির পুলিশ ও স্থানীয় পঞ্চায়েত নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে প্রশ্ন উঠছে—নিজের বাড়িতেই যদি একজন মহিলা নিরাপত্তা ও সম্মানের নিশ্চয়তা না পান, তাহলে গ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?নন্দীটিলার এই ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের অভিযোগ নয়, বরং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সীমান্তের গ্রামে আতঙ্কের রাত, নিরাপত্তাহীনতায় নন্দীটিলা
