শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই চারদিকে আনন্দের আবহ, ঢাকের শব্দ আর মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার আগমনের প্রস্তুতি। আর এই উৎসবকে পূর্ণতা দিতে দিনের পর দিন নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন মৃৎশিল্পীরা। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, তাই এখন দম ফেলারও সময় নেই তাঁদের।রাজধানী আগরতলায় মাটির প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ৪০ বছরের অভিজ্ঞ মৃৎশিল্পী উত্তম চক্রবর্তী। বছরের পর বছর ধরে নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা আর ভালোবাসা দিয়ে মাটির কাঠামোয় ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গার রূপ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিমা তৈরির খরচও।উত্তম চক্রবর্তীর কথায়, প্রতি বছর পুজোর সংখ্যা বাড়লেও প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থেকে শুরু করে শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ফলে প্রতিমা তৈরি করে আগের মতো লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিশ্রম বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না উপার্জন।তবুও থেমে নেই তাঁদের কাজ। কারণ, প্রতিমা তৈরি শুধু জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্য, শিল্পসত্তা আর আবেগ। তাই নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন মৃৎশিল্পীরা।উৎসবের আলোয় যখন ঝলমল করে উঠবে শহর থেকে গ্রাম, তখন সেই আনন্দের নেপথ্যে নীরবে থেকে যাবে এই শিল্পীদের ঘাম, পরিশ্রম আর ভালোবাসার গল্প। তাঁদের হাতের ছোঁয়াতেই মাটির প্রতিমা হয়ে উঠবে প্রাণময়ী দেবী দুর্গা। তবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে মৃৎশিল্পীদের পরিশ্রমের পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
লাভ কম, তবুও থেমে নেই প্রতিমা গড়ার কাজ! ঐতিহ্য বাঁচাতে ব্যস্ত আগরতলার মৃৎশিল্পীরা
